অন্ধ অনুসরণ

হুজুর ইলম দিয়ে মানুষকে একদিকে যেমন বিভ্রান্ত করছে আবার আরেকদিকে মানুষকে খুশি করার জন্য ইচ্ছামত ফতোয়া দিচ্ছে। এছাড়াও কেউ আবার করছে হুজুর পুজা,কেউ করছে শায়েখ পুজা আর কেউ করছে পীর পুজা। হুজুরকে রবের আসনে বসিয়ে ভাবছে হুজুর যা বলে সেটাই ঠিক। কুরআন-হাদিসে কি আছে সেটা দেখার প্রয়োজন মনে করে না। কেউ আবার ইমামকে পুজা করছে। সবাই যে দেখছি শিরকের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে অথচ মানুষ এটাকে গুরুত্বই দেয় না। মনে করছে আমার হুজুরই আমাকে শাফায়াত করবে, আমার ইমামই আমাকে শাফায়াত করবে!! আমার পীরই আমাকে শাফায়াত করবে।


কখনোই না। কস্মিনকালেও এটা সম্ভব হবে না৷ যেখানে আদম আঃ থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাঃ ব্যতীত প্রত্যেকটি নবীই শাফায়াত করতে পারবে না সেখানে আপনার ইমাম হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম হাম্বলি,ইমাম মালেকি করবে শাফায়াত। আপনার হুজুর করবে শাফায়াত, আপনার পীর করবে শাফায়াত। আপনার ইসলামি স্কলার করবে শাফায়াত!

যদি তারা শাফায়াতই করতে না পারে তাহলে কেন তাদের অন্ধ অনুসরণ করছেন? কেন তাদের পুজা করছেন? হুজুর যা বলে তাই ঠিক। কেন হুজুর কি ফেরেশতা নাকি!! ইমামদের অন্ধ অনুসরণ করছেন কেন? ইমামদের পুজা করা বন্ধ করুন। ইসলামি স্কলার হাদিসের বিরুদ্ধে যুক্তি দেবে সেটাই কেন মেনে নেবেন? হাদিসের বিরুদ্ধে যুক্তি কিসের? হাদিসের বিরুদ্ধে কোন যুক্তি চলবে না। হাদিস থাকতে কোন ইমামের কথা চলবে না। ইমাম কেন ওমর রাঃ যদি এমন কথা বলতেন যা রাসূল সাঃ বলেননি তাহলে তা বাতিল বাতিল বাতিল

একমাত্র অনুসরণ এর যোগ্য মানুষ হচ্ছেন মুহাম্মদ সাঃরাসূলের কথার বিপক্ষে কোন ইমাম, হুজুর, পীর, ওলি কারও কথা চলবে না। যদি তাই হতো তাহলে ঈসা আঃ এসে রাসূলের তরিকা অনুযায়ী কেন চলবেন? তার উপরও তো কিতাব নাজিল করা হয়েছিল। কিন্তু কেন তিনি রাসূলের তরিকা অনুযায়ী দ্বীন কায়েম করবেন!! কারন একটাই আল কুরআন ব্যতিত সকল কিতাব আল্লাহ বাতিল করে দিয়েছেন। তাহলে কেন আমরা হাদিস থাকতেও তা আমল না করে হাদিসের বিপরীত আমল করি? কেন হুজুরের দোহাই দেই? কেন ইমামের দোহাই দেই? কেন ইস্কলারের দোহাই দেই? কেন পীরের দোহাই দেই? কারন একটাই আমরা এদেরকে রবের আসনে বসিয়ে রেখেছি। তাদের মুরিদ হয়ে গেছি। তাদেরকে আমরা অজান্তেই পুজা করছি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ٱتَّخَذُوٓاْ أَحۡبَارَهُمۡ وَرُهۡبَٰنَهُمۡ أَرۡبَابٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِ وَٱلۡمَسِيحَ ٱبۡنَ مَرۡيَمَ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُوٓاْ إِلَٰهٗا وَٰحِدٗاۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۚ سُبۡحَٰنَهُۥ عَمَّا يُشۡرِكُونَ ٣١﴾ [التوبة: ٣١]

“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের আলিম ও ধর্ম-যাজকদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাদের প্রতি শুধু এ আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা শুধুমাত্র এক মা‘বূদের ইবাদাত করবে, যিনি ব্যতীত মা‘বূদ হওয়ার যোগ্য কেউ নয়। তিনি তাদের অংশী স্থাপন করা হতে পবিত্র।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৩১]

তাই আসুন সকল বিধান বাতিল করি অহির বিধান কায়েম করি। সকল তরিকা বাতিল করি রাসূলের তরিকা গ্রহণ করি। ইমাম ও হুজুরের অন্ধ অনুসরণ ত্যাগ করি রাসূলের অন্ধ অনুসরণ করি। সকল মতামতকে উপেক্ষা করে কুরআন ও সহীহ হাদিসের দিকে ফিরে আসি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন

লেখকঃ মোঃ আব্দুর রহমান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফেসবুকে অপ্রয়োজনে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করা ও তাদের সাথে চ্যাটিং করা কি জায়েয?

শয়তান মানুষকে বিভিন্ন কারনে আত্নহত্যা করার জন্য প্রলুব্ধ করে।

ভালবাসার শিরক কেমনে হয় জেনে নিন